ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান: সম্রাটের পর টার্গেট কে?

0
409

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে সর্বশেষ গত রবিবার (৬ অক্টোবর) ভোরে এক সহযোগীসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। ক্যাসিনো-কাণ্ডের হোতা হিসেবে পরিচিত সদ্যবহিষ্কৃত এই যুবলীগ নেতার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেট কে বা কারা, স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উঠেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ক্যাসিনোয় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজনকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই তারা আত্মগোপন চলে গেছে। র‌্যাবের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব নেতাকর্মীকে নজরদারিতে রেখেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুবলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ করার চার দিনের মাথায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ওই দিনই মতিঝিলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা ও ‘টেন্ডার কিং’ হিসেবে খ্যাত জি কে শামীম, ২১ সেপ্টেম্বর কলাবাগান ক্রীড়চক্রের সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজ, ২৫ সেপ্টেম্বর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধান এবং সর্বশেষ সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব আরও অন্তত এক ডজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নাম পেয়েছে। যারা ক্যাসিনোসহ চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে যুক্ত।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এই তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে যুবলীগের দফতর সম্পাদক আনিসুর রহমান। পিয়ন থেকে যুবলীগ নেতা বনে গিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া আনিস গ্রেফতার ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্যাসিনোর টাকার ভাগ নিতেন। র‌্যাবের হাতে রিমান্ডে থাকা খালেদও জিজ্ঞাসাবাদে আনিসকে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ক্যাসিনো পরিচালনায় খালেদ ও সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন মতিঝিল এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ ওরফে ‘ক্যাসিনো সাঈদ’। তবে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালানোর বিষয়টি টের পেয়ে তিনি সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডেও তার ক্যাসিনো ব্যবসা রয়েছে।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, সাঈদকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন তারা। প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

র‌্যাব-৩ সূত্র জানায়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকায় গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভুঁইয়াকেও খোঁজা হচ্ছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই দুজনের জিম্মা থেকে নগদ ১ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, ৭৩০ ভরি সোনার গয়নাসহ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানের মধ্যেই এনু থাইল্যান্ডে চলে গেছেন। তবে রুপনসহ অন্যরা এখনও দেশেই আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো কাজ করে যাচ্ছি। এই অভিযানে শুধু আমরাই না আরও স্টেক হোল্ডার বা সংস্থাও কাজ করছে। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়েই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। অনেক ব্যক্তির নামও এসেছে। আমরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো-কাণ্ডে গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বকুলের নাম এসেছে। নাম এসেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউছারেও। তিনি ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন। একই সঙ্গে তাদের শনাক্ত ও নজরদারি করার প্রক্রিয়াও চলছে। যেকোনও সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই সূত্র জানায়, গ্রেফতার যুবলীগ নেতা খালেদের ঘনিষ্ঠ মাকসুদুর রহমান, ল্যাংড়া জাকির মূলত টাকা তোলার কাজ করতেন। সম্রাটের হয়ে ক্যাসিনো দেখভাল করতেন বাদল ও খোরশেদ নামে দুজন। এছাড়া মতিঝিলের দিলকুশা ক্লাবের আবদুল মান্নান, আজাদ বয়েজ ক্লাবের এ কে এম নাছির উদ্দিন ও হাসান উদ্দিন জামানের ক্যাসিনোর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরও গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here