যেভাবে বুঝবেন হ্যাকড হয়েছে ফেসবুক আইডি

0
385

দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ফেসবুক আইডি হ্যাক করে অঘটন ঘটানোর অপচেষ্টা চলছে বারবার। এতে বিপাকে পড়ছেন যাঁর ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয় তিনিও। ফলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।

কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপনার ক্ষতি করতে চায়, তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টে আপনি পাসওয়ার্ড দিয়েও ঢুকতে পারবেন না। কিন্তু আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ই-মেইল বা পোস্ট যেতে থাকবে। তখন আপনি বুঝবেন আপনি আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

আবার এমনও হতে পারে, আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন কিন্তু আপনার নামে আপত্তিকর মেইল বা পোস্ট দেওয়া হচ্ছে; সে ক্ষেত্রে আপনি ধরে নিতে পারেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।

 

তাৎক্ষণিক করণীয় :
তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সেক্ষেত্রে জরুরি সেবার যে নম্বর ‘৯৯৯’ রয়েছে সেখানে জানাতে পারেন। এছাড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের কারো অ্যাকাউন্ট থেকে জানাতে পারেন যে আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে।
পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে যেসব পোস্ট বা ছবি শেয়ার করা হচ্ছে, সেগুলো আপনি করছেন না।
যেভাবে হ্যাক হয় :
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে একটা ‘প্রোগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং’ ব্যবহার করা হয়। যেমন- অপরিচিত বা পরিচিত বা কৌতুহলোদ্দীপক ঠিকানা থেকে আপনার কাছে একটা ইমেইল পাঠানো হলো।
এটাকে বলে ‘ফিশিং’ ইমেইল। সেখানে কিছু ছবি বা ফাইল থাকতে পারে বা লিঙ্ক থাকতে পারে। আপনি সেখানে ক্লিক করলে আপনার ডিভাইসে একটা সফটওয়্যার ঢুকে যায় এবং আপনার কার্যক্রমগুলো মনিটর বা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।
তখন দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে একজন, যে সফটওয়্যারটি নিয়ন্ত্রণ করছে, তার কাছে আপনার তথ্যগুলো চলে যায়। এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট যেমন হ্যাক করা যায়, তেমনি অন্য ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা যায়।
টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন :
ফেসবুক, ইমেইল বা গুগল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করার জন্য এতদিন বলা হত যত শক্তিশালী বা জটিল বর্ণ, ডিজিট দিয়ে করা যায় ততই নিরাপদ। কিন্তু সে ধারণা এখন পাল্টে গেছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেটা দিয়ে পাসওয়ার্ড ভেঙে ফেলা সম্ভব। সেজন্য দুই ধাপে পাসওয়ার্ড ভেরিফাই করা যায় এমন ব্যবস্থার মধ্যে আসতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, আপনার অ্যাকাউন্টে যদি অন্য ডিভাইস থেকে কেউ লগইন করার চেষ্টা করে তাহলে আপনার মোবাইলে বা ইমেইলে একটা কোড নোটিফিকেশন আসবে। তখন আপনি জানতে পারবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার আপনি নিজে যদি অন্য ডিভাইস থেকে লগইন করার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনি নিজেই চেক করে অনুমোদন দিয়ে অ্যাকাউন্টটি চালু করতে পারেন।
অপরিচিত ইমেইল, লিংক এড়িয়ে চলা :
যদি আপনার ফেসবুকে কোনো লিংক আসে, সেটা মেসেঞ্জারের মাধ্যমেও হতে পারে, সেটা এড়িয়ে চলুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের কৌতূহল একটু কমাতে হবে। যেকোনো লিংক বা ইমেইলে অ্যাটাচমেন্ট থাকলে সেটা ক্লিক করার আগে বা খোলার আগে সচেতন করতে হবে।
এসব লিংক বা ফাইল খোলার ফল :
এসব লিংক বা ইমেইলে থাকা অ্যাটাচমেন্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ম্যালওয়ার থাকতে পারে যেটা আপনার ডিভাইসে ঢুকে আপনার ডিভাইসের তথ্য চুরি করতে পারে। তবে আপনি যদি কোন ইমেইল খুলে কী লেখা আছে সেটা পড়তে থাকেন অ্যাটাচমেন্ট ক্লিক না করে সেক্ষেত্রে এই ম্যালওয়ারটি আপনার ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
সফটওয়্যার ও অ্যাপ ব্যবহারে সাবধানতা :
যেকোনো ধরনের সফটওয়্যার যেকোনো ডিভাইসে ইনস্টল করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সফটওয়্যার এবং অ্যাপগুলো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ব্যবহার করতে হবে।
যেকোনো স্থান থেকে যদি আপনি সফটওয়্যার এবং অ্যাপ ডাউনলোড করেন তাহলে আপনি নিজেকে বিপদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবেন নিজেকে।
সেটিংস পরিবর্তন করা :
আপনি যেসব ডিভাইস ব্যবহার করেন সেসব ডিভাইস এর সেটিংস অপশনে গিয়ে বেশ কিছু বিষয় নিরাপত্তার জন্য পরিবর্তন করা। যেমন লগইন অ্যালার্ট চালু করুন। লগইন অ্যাপ্রুভাল চালু করুন।
আপনাকে যাতে কোন ছবি বা পোস্টে কেউ আপনার অনুমতি না নিয়ে ট্যাগ না করতে পারে সেই অপশনটা চালু করুন। এতে করে অন্যের কাজের দায়ভার আপনার নিতে হবে না। আর আপনি নাও চাইতে পারেন কোন পোস্ট বা ছবি আপনাকে ট্যাগ না করুক ফেসবুকে। আপনি যখন অ্যাপ্রুভ করবেন তখনি কেবল সেটা আপনার টাইমলাইনে আসবে।
সূত্র : বিবিসি

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here